|

Advertisement
×

সাফাত আহমদ চৌধুরীর জন্মবার্ষিকী আজ

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬   প্রিন্ট   ১০ বার পঠিত

সাফাত আহমদ চৌধুরীর জন্মবার্ষিকী আজ

আজ ১ আগস্ট, বাংলাদেশের বীমা সেক্টরের অন্যতম ব্যক্তিত্ব সাফাত আহমদ চৌধুরীর জন্মবার্ষিকী। ১৯৩২ সালের এই দিনে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
সাফাত আহমদ চৌধুরী সিলেটের এমসি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে। ১৯৫৬ সালে তিনি এমএসসি পাস করার পরে রাজশাহী সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদে পরিসংখ্যানে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। কিছুদিন পরে চাকরি ছেড়ে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। সেটাও ছেড়ে দেন তিনি।

১৯৬৩ সালে লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ঈগল স্টার ইন্স্যুরেন্স কোং এবং প্রোডেনশিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল বিভাগে ট্রেইনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানকার ইনষ্টিটিউট অব অ্যাকচ্যুয়ারিজ থেকে তিনি ফেলো ইনষ্টিটিউট অব অ্যাকচ্যুয়ারি(এফআইএ) ডিগ্রি নেন। তিনিই অ্যাকচ্যুয়ারির ওপর দেশের প্রথম উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী ব্যক্তি। ১৯৬৮ সালে দেশে ফিরে তিনি ইস্টার্ন ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল হিসেবে যোগ দেন।

দেশস্বাধীনের পর তিনি বীমা অধিদপ্তরের প্রথম প্রধান বীমা নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সে সময়ে তিনি জীবন বীমা করপোরেশনের অ্যাকচ্যুয়ারি ও অ্যাডভাইজার হিসেবে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। বীমা অধিদপ্তরে কয়েক বছর চাকরি করার পর তিনি ১৯৭৬ সালে কুয়েতে চলে যান।কিন্তু মন পড়ে থাকে দেশে। সেখানে গালফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীতে টানা ৯ বছর অ্যাকচ্যুয়ারি হিসেবে চাকরী করার পর ১৯৮৫ সালে দেশে ফিরে গড়ে তোলেন তার স্বপ্নের বীমা সাম্রাজ্য। সে বছরই সরকার বেসরকারি খাতে বীমা ব্যবসা করার অনুমতি দিলে তার নেতৃত্বে প্রবাসী বাংলাদেশি ও দেশীয় কয়েকজন উদ্যোক্তা নিয়ে গঠিত হয় গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী। একে একে গড়ে ওঠে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ডেল্টা মেডিকেল সেন্টার, ডেল্টা হাউজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স করপোরেশনসহ অনেক প্রতিষ্ঠান।
আধুনিক চিন্তার মননশীল সাফাত আহমদ নতুন নতুন কর্মপরিকল্পনায় বীমাকে সামনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। প্রথমেই তিনি গ্রামীণ বীমা নামক একটি প্রকল্প তৈরি করেন। ১৯৮৮ সালে বন্যায় যখন সারাদেশ বিপর্যস্ত দুঃখী, দুস্থ, গরিব অসহায় স্বল্পআয়ের মানুষের জন্য ‘ক্ষুদ্র বীমা প্রকল্প’ তার পরিকল্পনায় আসে। শিক্ষিত বেকার ছেলেমেয়েদের নিয়ে শুরু করেন ‘ক্ষুদ্র বীমা। তার উদ্ভাবিত ‘ক্ষুদ্র বীমা প্রকল্প’টি ব্যাপকভাবে ডেল্টা লাইফে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন কোম্পানি এ প্রকল্পটি গ্রহণ করে বিপর্যস্ত বীমাশিল্পকে নবজাগরণের সন্ধান দেয়। ১৯৯৩ সালে তিনি চালু করেন গণবিমা। একইভাবে দুইবীমা সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

সার্থক ব্যবস্থাপক, নিপুণ কারিগর, মানবতাবাদী ছিলেন সাফাত আহমদ চৌধুরী। প্রাতিষ্ঠানিক প্রাথমিক স্তরের শৈল্পিক নিপুণ হাতের প্রতিচ্ছবি; তিনি যা অনুধাবন করতেন তারই বিশ্লেষণ তৈরি করে দিতেন। তিনি বলতেন, প্রচার হবে কর্মের মাধ্যমে। মানবতাবাদী সাফাত আহমদের কাছে কেউ বড় ছোট ছিলেন না; সকলকে সমান চোখে দেখতেন। তিনি কর্মের মাধ্যমে যে আদর্শ প্রচার করে গেছেন তা মাইলফলক হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে আছে। তিনি চারটি উপদেশ দিতেন (১) তোমার মূল্যায়ন তুমি নিজে করো না, অন্যকে করতে দাও, (২) সবার প্রতি সমান দৃষ্টি রেখ, (৩) মনে আর কর্মে দু’রকম করো না; যা সত্যি তাই মানুষকে বলবে। তাতে সন্তুষ্ট হোক বা না হোক এবং (৪) নিজের কর্মশক্তির প্রতি অবিচল আস্থা রাখিও। কারণ তুমি জানো যে কাজটি তুমি করতে পারবে, অন্যের কথায় তা যেন ভেঙে না পড়ে।
বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাসভনে ৭৭ বছর বয়সে ২০০৭ সালের ১ জুন ইন্তেকাল করেন তিনি।

ইকনোমিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন ২০১৯ সালের ১১ মার্চ এই বীমা জাগরণের পথিকৃৎকে গুণীজন সম্মাননা (মরণোত্তর) প্রদান করে।

 

Facebook Comments Box

Posted ০৫:১৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com